মঙ্গলবার , ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একটি ফুটবল ম্যাচ, আদনানের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা

একটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারের স্বপ্ন থামিয়ে দেয়। মাঠের প্রতিভাবান এক তরুণ হঠাৎ করে পড়ে যায় হাসপাতালের বিছানায়। তবে থেমে থাকেনি সমাজ। এগিয়ে এসেছে ভালোবাসা, সহানুভূতি, সংগঠন—আর এগিয়ে এসেছে একটি ফুটবল ক্লাব।

নন্দীরবাজার ফুটবল ক্লাবের আয়োজনে শেরপুর সদর উপজেলার মুকসুদপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি যেন শুধুই খেলাধুলা নয়, ছিল এক মানবিক প্রতিবাদ ও সহমর্মিতার প্রকাশ।

আদনান—একজন প্রাণবন্ত, তরুণ ফুটবলার। দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল খেলে আসছে। কিন্তু হঠাৎ এক প্রীতি ম্যাচে খেলতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হাঁটুর আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন। তার কিডনি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং বুকের হাড় ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
চিকিৎসকদের মতে, আদনানের দ্রুত অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন, যা ব্যয়বহুল। তার বাবা একজন রাজমিস্ত্রী—দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারে এমন চিকিৎসা খরচ চালানো সম্ভব নয়।

এই দুঃসময়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় নন্দীরবাজার ফুটবল ক্লাব। তারা আয়োজন করে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, যেখানে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ ফুটবল একাদশ বনাম নাইজেরিয়া ফুটবল একাদশ
মাঠে ছিল উপচে পড়া দর্শক, গ্যালারিতে প্রাণের ঢেউ। প্রতিটি ২০ টাকার টিকিট যেন হয়ে উঠেছিল আদনানের সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক ছোট্ট পদক্ষেপ।

খেলায় টিকিট বিক্রি ও স্থানীয় মানুষের অনুদানে সর্বমোট ১,৩১,০০০ টাকা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে টিকিট বিক্রি থেকেই আসে ৭৩,২৩৮ টাকা
এই আয়োজন সফল করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে মানবতা সংস্থা, যারা মাঠ পর্যায়ে টিকিট বিক্রি ও প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন। আয়োজনে সমর্থন জানান শেরপুর জেলার ক্রীড়ামোদী মানুষ এবং ময়মনসিংহ বিভাগের পেশাদার ফুটবলাররা।

খেলায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. হযরত আলী, আহ্বায়ক এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ পলাশ, যুবদল নেতা আতাউর রহমান আতা, ও রফিকুল আল শিপনসহ অনেকে।
মো. হযরত আলী আদনানকে ব্যক্তিগতভাবে দশ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আদনানের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন

উক্ত খেলায় দুই দলই একটি করে গোল করে ম্যাচ ড্র করে। খেলোয়াড়দের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলার ইমরান, জুয়েল, সিজার, জিহান ও শিমুলদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
তারা বলেন, “আমরা এই অঞ্চলের ফুটবলার হিসেবে নিজের দায়িত্ববোধ থেকে আদনানের পাশে দাঁড়িয়েছি। ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গাও।”

আদনানের চিকিৎসা এখনো চলছে। সংগ্রহ করা অর্থ খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা হবে। আয়োজকরা বিশ্বাস করেন, এই আয়োজন সমাজে এক মানবিক আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।

গুরুত্বপুর্ন লিংক