বুধবার , ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে হা-হা রিয়েক্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৪

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে হা হা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে ৪ কিশোর আহতের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ফেনীর সদর উপজেলার কাজীরবাগ ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুরতর আহত ২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

আহতরা হলেন, পশ্চিম সোনাপুর গ্রামের নুরুল আবছারের ছেলে মো. অমিত হাসান (১৮), এয়াকুব মিয়ার ছেলে জিসান (১৭) সিরাজুল ইসলামের ছেলে শরীফুল ইসলাম (১৭), মো. শাহীনের ছেলে রিজন (১৬)। আহতরা সবাই মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী বলে জানান যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন পূর্বে অমিত হাসানের ফেসবুক পোস্টে হা হা রিয়েক্ট দেয় নিলয় নামে একই এলাকার এক কিশোর। শুক্রবার রাতে সোনাপুর ইসলামি সেন্টারের সামনে অমিত হাসানসহ ৬/৭ জন কিশোর নিলয়কে হা হা রিয়েক্ট দেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে যায় নিলয় ও অমিত। ক্ষিপ্ত হয়ে এক পর্যায়ে পকেট থেকে টিপ ছুরি বের করে অমিতসহ বাকীদের ওপর হামলা করে নিলয়। এতে অমিতসহ ৪ জন আহত হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় রিজন ও শরীফকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ রেফার্ড করা হয়েছে। বাকী দুইজন ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের একজন আবদুল্লাহ আল মামুন শাহী গণমাধ্যকে জানান, বিগত সরকার আমলে নিলয়ের সাথে অমিতের ঝামেলা হয়েছিল। সেটার রেষ ধরে নিলয় কিছুদিন আগে অমিতের ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া একটা পোস্টে হা হা রিয়েক্ট দেয়। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে পশ্চিম সোনাপুর ইসলামি সেন্টারের সামনে তার সাথে দেখা হলে হা হা রিয়েক্টের কারণ জিজ্ঞেস করলে নিলয় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে প্রথমে অমিতকে এবং পরে আমাদের ওপর ছুরি নিয়ে আক্রমণ করে ৪ জনকে আহত করে। শোরগোল শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে নিলয় পালিয়ে যায়।

আহত রিজন বলেন, আমরা কেউ তাকে (নিলয়কে) কিছু বলিনি। অমিত ভাই শুধু জিজ্ঞেস করেছে কেন হা হা রিয়েক্ট দিয়েছো। এতেই সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করে।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইদুর রহমান বলেন, আহত ৪ জনের মধ্যে ২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। একজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। অন্য একজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে যান।

এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযুক্ত নিলয়কে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

গুরুত্বপুর্ন লিংক