সোমবার , ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শপথ নিলেন সিইসি ও চার নির্বাচন কমিশনার

শপথ নিয়েছেন পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ এম এম নাসির উদ্দীন এবং চার নির্বাচন কমিশনার (ইসি)।

রবিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাদের শপথ পাঠ করান প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. আজিজ আহমদ ভূঞা।

শপথ নেওয়া অন্য চার কমিশনার হলেন- সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহমানেল মাছউদ, অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব বেগম তহমিদা আহমদ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

এরপর তারা স্বাক্ষর বইতে স্বাক্ষর করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের বিচারপতি, নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত সার্চ কমিটির সদস্য, নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শপথ নেওয়ার পর সিইসিসহ চার নির্বাচন কমিশনার আজই দায়িত্ব নেবেন। প্রথা অনুযায়ী নতুন কমিশনকে বরণ করতে সব ধরনের প্রস্ততি নিয়েছে ইসি সচিবালয়।

সিইসিসহ চার নির্বাচন কমিশনারের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে প্রটোকল অফিসার। তারা বাসা থেকে সিইসি ও কমিশনারদের শপথের অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে অনুষ্ঠান শেষে তাদের আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিয়ে আসবেন।

ইসি সচিবালয়ে তাদের বরণ করতে রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

নতুন সিইসি নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বাধীন কমিশন হলো দেশের ১৪তম নির্বাচন কমিশন। তাদের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে ২ মাস ১৮ দিন পর পূরণ হতে চলেছে ইসির শীর্ষ এই পাঁচ পদ। গত ৫ সেপ্টেম্বর বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পাওয়া কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন একযোগে পদত্যাগ করে। এরপর থেকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসির এই পদগুলো শূন্য ছিল।

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে আইন অনুযায়ী, গত ২৯ অক্টোবর আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। সার্চ কমিটির আহ্বানে নতুন ইসি গঠনের লক্ষ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ মোট ১৭টি দল ও জোট নাম প্রস্তাব করে। ওই কমিটি যাচাই-বাছাই করে ১০ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা ২০ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠায়। পরদিন রাষ্ট্রপতি তাদের মধ্য থেকে সাবেক সচিব এ এম এম নাসির উদ্দীনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আদেশ দেন।

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন: দেশের চতুর্দশ সিইসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নাসির উদ্দীন অভিজ্ঞ একজন আমলা। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে তিনি অবসরে যান। অবসরে যাওয়ার আগে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০০৪ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে তথ্যসচিব, জ্বালানিসচিব, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নাসির উদ্দীনের বাড়ি কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায়। ১৯৫৩ সালের ১ জুলাই তার জন্ম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর করার পর তিনি ১৯৭৭ সালে পেশাজীবন শুরু করেন শিক্ষক হিসেবে। বিসিএস (প্রশাসন) ৭৯তম ব্যাচে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: সাবেক অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসরে যাওয়ার আগে দায়িত্ব পালন করেছেন সরকারের টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে। ৮৫তম ব্যাচের সাবেক এই কর্মকর্তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে ভারপ্রাপ্ত সচিব পদমর্যাদায় তাকে বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান করা হয়। তার আগে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

নির্বাচন কমিশনার বেগম তহমিদা আহমদ: ২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (আইন) হিসেবে দায়িত্ব পান। ওই বছরই তিনি প্রথমে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং পরে পাট অধিদপ্তরের পরিচালক হন। ১১তম প্রশাসন ব্যাচের কর্মকর্তা তহমিদার স্বামী এহসানুল হকও একই ব্যাচের অবসরপ্রাপ্ত আমলা। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ: অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ছিলেন। বিগত সরকার ২০২০ সালে তাকে মিনিস্টার পদের কূটনৈতিক পদমর্যাদায় এ পদে নিয়োগ দেয়। ১৮তম বিএমএ লং কোর্সের এ সেনা কর্মকর্তা ৩৫ বছর মিলিটারি সার্ভিসে ছিলেন।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ: তিনি অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ। ১৯৭৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে একডেমিক পড়াশোনা শেষ করেন। ১৯৮১ সাল থেকে আইন পেশা শুরু করেন। তার গ্রামের বাড়ি ঢাকা জেলার ধামরাইয়ে।

গুরুত্বপুর্ন লিংক