বুধবার , ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে হবে: রিজওয়ানা হাসান

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে হবে। হর্ন বাজানোটা আমাদের বহুদিনের চরম বদভ্যাস। এটা পরিবর্তনের জন্য যেমন আইন লাগে তেমনি মানুষেরও অভ্যাস পরিবর্তন করতে হয়।’
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর আওতায় শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হর্নের বিরুদ্ধে মোটর শোভাযাত্রার আয়োজন উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন
পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যৌথ উদ্যোগে এ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারহিনা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, ‘আমাদের ‘শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫’-এর গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে আইনগতভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পাশাপাশি পুলিশকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ তারাই সারাক্ষণ রাস্তায় থাকে; তারা যেন শব্দ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে। ইতোমধ্যে ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকাকে নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব এলাকায় মনিটরিং বাড়াতে হবে।’
‘শব্দ দূষণের দুটি উৎসকে বেশি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে–হর্ন বাজানো আর আতশবাজি ফুটানো।’
তিনি একটা সুনির্দিষ্ট স্থানে যাতে শুধুমাত্র নববর্ষের আতশবাজি ফোটানো হয় যাওয়ার আগে তার ব্যবস্থা করে যাওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান।
উপদেষ্টা আগামী নির্বাচিত সরকার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
রিজওয়ানা হাসান মানুষের এ অভ্যাস পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে বিষয়টিকে ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ আপনারা স্বপ্রণোদিত হয়ে, নিজেদের দায়িত্বের জায়গা থেকে মানুষকে হর্ন না বাজানোর বার্তা প্রচার করুন।’
উপস্থিত তরণ কর্মীদের উদ্দেশ্য করে রিজওয়া হাসান বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে যদি বধির হওয়া থেকে বাঁচাতে হয়, শব্দদূষণের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে; তবেই পরিবর্তন আসবে।’
‘আর নয় শব্দ দূষণ, জয় হোক সুস্থ জীবন’—স্লোগানকে সামনে রেখে উপদেষ্টা বর্নিল শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। শোভাযাত্রাটি সকালে মানিক মিয়া এভিনিউ (সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা) থেকে শুরু হয়ে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বিজয় স্মরণী হয়ে আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের এসে শেষ হয়।
আয়োজনে আরো বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো কামরুজ্জামান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ার।
উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা।
পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়ধীন ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর আয়োজনে গত ৫ জানুয়ারি থেকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দশটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দশ দিন মোবাইল কোর্ট ও ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছে; যা আজকের মোটর শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। এই ক্যাম্পেইন পরিচালনায় সহযোগিতা করেছেন গ্রীন ভয়েস’-এর তরুণ স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীরা।

গুরুত্বপুর্ন লিংক