শুক্রবার , ২৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে সাবেক ভূমি মন্ত্রী স্ত্রীসহ পুলিশ হেফাজতে

জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক ভূমি মন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা ও তার স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শেরপুর সদর উপজেলার সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে তাদের থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমি রেজিস্ট্রির সময় স্থানীয় ছাত্র জনতা রেজাউল করিম হীরাকে ঘিরে ফেলেন। পরে ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরাও সেখানে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এবং জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে বুঝে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। জনরোষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাবেক মন্ত্রী ও তার স্ত্রীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

শেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম হাসান উজ্জ্বল বলেন, এই ভূমি দস্যু অবৈধ আওয়ামী লীগের আমলে ভূমি মন্ত্রী ছিলো। জাতীয়তাবাদী দলের নেতা কর্মীরা তাকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আটক করি।

শেরপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাশেম সিদ্দিকী বাবু বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের অবৈধ ভূমি মন্ত্রী মানুষের কাছ থেকে দখল করা ভূমি এখানে জমি করতে আসলে আমরা তাকে আটক করি। পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

এসময় সাবেক ছাত্রদল নেতা আবুল হাসনাত ডিয়ন, শেরপুর শহর শ্রমিক দলের সভাপতি মাসুদুর রহমান নয়ন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সাইদুল ইসলাম সানি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নিয়ামুল হাসান আনন্দসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন,“রেজাউল করিম হীরা সাবেক মন্ত্রী। তিনি বয়ষ্ক এবং বর্তমানে অসুস্থ। তার সঙ্গে থাকা স্ত্রীও অসুস্থ। শেরপুরে তারা ব্যক্তিগত কাজে এসেছিলেন। এ সময় ছাত্র জনতা জমায়েত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। মব তৈরি হওয়ার শঙ্কায় তাদের থানায় নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে শেরপুরে কোনো মামলা নেই।”

এবিষয়ে জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম পিপিএম বলেন, আমরা এখনো বিষয়টি অবগত নই। তবে সাবেক মন্ত্রী রেজাউল করিম হীরার নামে জামালপুরেও কোন মামলা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে রেজাউল করিম হীরার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, জমি রেজিস্ট্রির একটি বিষয় নিয়ে তিনি শেরপুরে এসেছিলেন। তার সাথে একটি সাদা রঙের বিলাসবহুল পাজেরো গাড়ি ছিলো। উত্তেজিত জনতা তার গাড়ির চাকা ছিদ্র করে দেয়।

গুরুত্বপুর্ন লিংক