শুক্রবার , ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের পারমাণবিক চুল্লিতে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সদর দপ্তরে ইরানের হামলা

পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে ইরান-ইসরাইল। ইরানের আরাক শহরে ভারী পানির পারমাণবিক চুল্লিতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। অপর দিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর কমান্ড সেন্টার, গোয়েন্দা বিভাগের সদর দপ্তর এবং সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা শাখায় হামলা চালিয়েছে ইরান।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর বলছে, ডিউটেরিয়াম অক্সাইড মিশ্রিত এই ভারী পানি পারমাণবিক চুল্লি শীতল করার কাজে ব্যবহার হয়। তবে উপজাত পণ্য হিসেবে ওই পানি থেকে প্লুটোনিয়াম পাওয়া যায়। এই উপাদান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে কাজে লাগে।

২০১৫ সালে বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গে সই হওয়া পারমাণবিক চুক্তিতে আরাক পারমাণবিক স্থাপনায় ভারী পানির চুল্লির নকশা নতুন করে করার বিষয়ে রাজি হয়েছিল ইরান। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ দূর করার চেষ্টা করা হয় বলেও এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরান বরাবরই জানিয়ে এসেছে, তাদের পারমাণবিক প্রকল্প বেসামরিক উদ্দেশ্যে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি আরাক পারমাণবিক স্থাপনায় ভারী পানির চুল্লির নতুন নকশা প্রণয়নে ইরানকে সহায়তা করছিল যুক্তরাজ্য সরকার। এপি জানিয়েছে, নতুন নকশায় প্লুটোনিয়াম উৎপাদন কমিয়ে আনাকে লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

অপর দিকে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর কমান্ড সেন্টার, গোয়েন্দা বিভাগের সদর দপ্তর এবং সামরিক গোয়োন্দা শাখার শিবির— এই তিন স্থাপনার অবস্থান ভূখণ্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বিয়ের শেভায়। ইরনা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

“এটা ছিল নিখুঁত এবং সরাসরি আঘাত। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে এই তিন সামরিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”

“গোয়েন্দা বিভাগের সদরদপ্তরের কাছে সোরোকা নামের একটি হাসপাতাল আছে। সেখানে কোনো আঘাত করা হয়নি, তবে ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দের শকওয়েভে হাসপাতালটির কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে”, বলা হয়েছে ইরনার প্রতিবেদনে।

ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করছে— অভিযোগ তুলে গত ১৩ জুন শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ইরানে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী (আইএএফ)। এ অভিযানকে ‘অপারেশন দ্য রাইজিং লায়ন’ নাম দিয়েছে ইসরায়েল।
এখনও চলছে ‘অপারেশন দ্য রাইজিং লায়ন’। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর বোমাবর্ষণে এ পর্যন্ত দেশটিতে নিহত হয়েছে ৬ শতাধিক এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি।

এদিকে ইসরায়েলের বিমান বাহিনীর অভিযান শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’ নামের পাল্টা সেনা অভিযান শুরু করে ইরান। গত ৫ দিনে সে অভিযানে আহত ও নিহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন, কিন্তু তাদের হালনাগাদ সংখ্যা প্রকাশ করছে না ইসরায়েল।

গুরুত্বপুর্ন লিংক