বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না নিয়ে মোড়কে লোগো ব্যবহার করে বিক্রি করা হচ্ছে সেমাই, আইসক্রিম, চিপস, চানাচুর ও মটর ভাজাসহ নানা খাদ্যসামগ্রী। নোংরা পরিবেশ ও অস্বাস্থ্যকর উপাদান দিয়ে চলছে শিশুখাদ্যপণ্য উৎপাদন। উপজেলা প্রশাসন ও বিএসটিআই এর যৌথ অভিযানে এমন অনিয়ম মিলেছে শেরপুরের নকলায় পূর্ব চিথলিয়া ও জালালপুর এলাকায় আলিফ ফুড এন্ড বেকারী ও মিথিল আইসক্রিম এন্ড ফুড প্রোডাক্ট কারখানায়। অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এর তথ্যের ভিত্তিতে নকলা উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন খাদ্য তৈরী কারখানায়।
অভিযান পরিচালনা করেন নকলা উপজেলার সহকারী কমিশনার( ভূমি)ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানি।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানাযায়, নকলার আলিফ ফুড এন্ড বেকারী ও মিথিল আইসক্রিম এন্ড ফুড প্রোডাক্ট কারখানা দুটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই, আইসক্রিম, চিপস, চানাচুর ও মটর ভাজা দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন ও সংরক্ষণ করে আসছে। প্রতিষ্ঠান দুটির কোনো অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও বিএসটিআই এর লোগোও ব্যবহার করছিল। বিএসটিআই এর লোগোর অনুমোদনপত্র, কারখানা স্থাপনের অনুমোদনপত্র, পরিবেশ ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কোনো কাগজপত্র নেই। এছাড়া কারখানাটিতে বিভিন্ন প্রোডাক্ট উৎপাদনের জন্য ল্যাব না থাকায় খালি হাতে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে বাহির থেকে নিয়ে আসা প্যাকেটে আলিফ ফুড এন্ড বেকারীতে চেয়ারম্যান সেমাই ও মিথিল ফুড প্রোডাক্টস কারখানায় চানাচুর ১২০০ পিস, চিপস ২৪০০ পিস, মটর ভাজা ১৪০০ পিস, ফাটাফাটি চিপস ২৪০০ পিস, পটেটো চিপস ২০০পিস প্যাকেট অবস্থায় পাওয়া যায়। এছাড়াও খোলা অবস্থায় ৮৮২০ প্যাকেট চিপস জব্দ করা হয়। বিভিন্ন নামীয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি নকল আইসক্রিম ধ্বংস করা হয়। এসব দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আর আলিফ ফুড এন্ড বেকারীতে ৭১০ কেজি সেমাই জব্দ করা হয় এবং ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করে কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এসময় বিএসটিআই কর্মকর্তা রাহাত আহমেদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।



